1. admin@ritekrishi.com : ritekrishi :
  2. ritekrishi@gmail.com : ritekrishi01 :
অণুজীব সারে ধানের ভালো ফলনের আশা - Rite Krishi
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

অণুজীব সারে ধানের ভালো ফলনের আশা

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ৩৭ পড়া হয়েছে

বর্তমানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়া ফসল চাষের কথা ভাবা যায় না। তার ওপর দিন দিন সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে। ফলে চাষাবাদে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কৃষকদের ধানক্ষেতে পরীক্ষামূলকভাবে অণুজীব সার ব্যবহার শুরু করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। এই পদ্ধতিতে রোপা আমন ধান চাষ করে ভালো ফল পাওয়ার কথা বলছেন কৃষকরা। ভালো ফল পাওয়া গেলে প্রান্তিক কৃষকদেরও এই সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

অণুজীব সার তৈরি করা হয় প্রাকৃতিক উপায়ে। এই সার তৈরিতে খরচ হয় নামমাত্র। গোবর, গো-মূত্র, চিটাগুড়, বেসন ও পানি দিয়ে তৈরি হয় অণুজীব সার। একজন কৃষক নিজের বাড়িতে খুব সহজে অণুজীব সার তৈরি করতে পারেন। চাষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঁচ-থেকে ছয়বার জমিতে এ সার প্রয়োগ করতে হয়। এ সার ব্যবহারে খরচ যেমন কম হয়, তেমনই জমির উর্বরতাও বাড়ে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

উপজেলার ছাতনীপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কৃষক বাবলু লাকড়া বলেন, ‘সিসিডিবির সহযোগীতায় এবারই প্রথম অণুজীব সার প্রয়োগ করে এক বিঘা জমিতে ব্রি-৭১ জাতের ধান চাষ করেছি। এতে জমিতে কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি। সিসিডিবির দেখানো পদ্ধতিতে নিজের বাড়িতেই অণুজীব সার তৈরি করে জমিতে প্রয়োগ করছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে জমি তৈরির আগে একটি ড্রামে ১০ কেজি গোবর, ১০ কেজি গো-মূত্র, ১ কেজি চিটাগুড়, ১ কেজি বেসন ও পানি দিয়ে ২০০ লিটার তরল সার তৈরি করি। এর তিন দিন পর সেগুলো জমিতে ছিটাই। ২০০ লিটার তরল সার এক বিঘা জমিতে তিনবার প্রয়োগ করা যায়। এভাবে ধান চষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়বার অণুজীব সার ব্যবহার করতে হয়। এ সার ব্যবহারে জমির মাটি অনেক উর্বর হয়েছে। ইতোমধ্যে রোপণ করা ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত আমার জমিতে কোনও রাসায়নিক সার-কীটনাশক বা ছত্রাক নাশক ব্যবহার করতে হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জমিতে কোনও আগাছা নেই। পোকামাকড় বা রোগও দেখা দেয়নি। যারা জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দিয়েছেন তাদের চেয়ে আমার জমির ধান ভালো হয়েছে। এই পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে অণুজীব সার ব্যবহারে খরচ হয়েছে মাত্র ১২শ’ টাকা। একই পরিমাণ জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করলে খরচ হতো ৪ হাজার টাকা।’

তার মতো একই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন ওই গ্রামের কৃষক উজ্জল তিরকি। তার জমির ধানগাছও ভালো রয়েছে। ধানের শীষ বের হয়েছে। ইতোমধ্যে এই পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার অন্য কৃষকরাও।

অপর কৃষক বাদল মার্ডি বলেন, ‘রাসায়নিক সার দিয়ে আবাদ করা ধানের চেয়ে অণুজীব সার দিয়ে আবাদ করা ধান অনেক ভালো হয়েছে। এই ধান এখন পর্যন্ত সবুজ হয়ে আছে। গাছ বেশ ভালো রয়েছে। আমি সার দিয়ে ধান লাগিয়েছি, তারপরও ধান লাল হয়ে গেছে। সামনে এই সার প্রয়োগ করে ধান চাষ করবো বলে ভাবছি।’

কৃষক রুপলাল তির্কি বলেন, ‘আমার জমির পাশের জমিতে সিসিডিবির সহযোগীতায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই ব্রি ধান-৭১ আবাদ করা হয়েছে। আমার জমির ধানের থেকে সেই জমির ধান অনেক ভালো হয়েছে। সামনে আমিও এই সার ব্যবহারে চেষ্টা করবো।’

সিসিডিবি নবাবগঞ্জের এরিয়া ম্যানেজার কৃষিবিদ হরিসাধন রায় বলেন, ‘অণুজীব সারের ব্যবহার বিজ্ঞানভিত্তিক সহজ একটি চাষা পদ্ধতি, যা কৃষকদের নাগালের মধ্যে। এই পদ্ধতিতে ধান চাষের ফলে কোনও ধরনের রাসায়নিক সার-কীটনাশক, আগাছানাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয় না। অল্প খরচে চাষাবাদ করা যায়। এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরির সময় অণুজীব সার প্রয়োগ করতে হয়। এতে ২ কেজি বীজের জন্য ১ কেজি গোবর ও ১ কেজি গোমূত্র লাগে। এ সার ব্যবহার করলে বীজতলায় অন্য কোনও কীটনাশক স্প্রে করতে হয় না। রাসায়নিক সার ব্যবহারে ধানের যে ফলন হয়, এ পদ্ধতিতে তার চেয়ে বেশি ফলন হবে। এছাড়া প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের আমদানি খরচ বাঁচবে। কৃষকদের মাঝে এ পদ্ধতি পৌঁছে দিতে পারলে চাষাবাদে আমরা বড় ধরনের বিপ্লব ঘটাতে পারবো বলে আশা করি।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সিসিডিবির আওতায় উপজেলায় স্বল্প পরিসরে জৈব বালাইনাশক ও জৈব সার ব্যবহার করে ন্যাচারাল ফার্মিং নামে রোপা আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এটি পরিক্ষামূলকভাবে চলছে। এতে উৎপাদন খরচ কম এবং এখন পর্যন্ত ধানের অবস্থা খুব ভালো রয়েছে। আমরা ভালো ফলনের আশা করছি। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে ধানের ভালো ফলন পেলে আগামীতে অন্য কৃষকদের এ সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হবে। এর মাধ্যমে ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকদের খরচ কম হবে। তাতে স্বল্প খরচে লাভ হবে বেশি।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
More News Of This Category
Web Design By Best Web BD