1. info@ritekrishi.com : ritekrishi01 :
  2. admin@ritekrishi.com : ritekrishi :
  3. ritekrishi@gmail.com : ritekrishi01 :
বাসার ছাদে আনার বাগান করে সফল আল আমিন
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন

বাসার ছাদে আনার বাগান করে সফল আল আমিন

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ২ পড়া হয়েছে
  • বাসার ছাদে আনার বাগান করে সফল আল আমিন
  • অসুস্থ মায়ের জন্য বাসার ছাদে আনার গাছ রোপণ
  • প্রতি মাসে খরচ বাদে ৬০-৮০ হাজার টাকা আয়
  • আল আমিনের আনার বাগানে ২৬টি জাত আছে
  • তিনি আনারের কলম করে চারা বিক্রি করছেন

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ইউটিউব দেখে বাসার ছাদে আনার বাগান করে সফলতা পেয়েছেন আল আমিন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি মায়ের জন্য নিজ বাসার ছাদে কয়েকটি আনার গাছ রোপণ করেন। পরে তার মায়ের মৃত্যু হলেও বর্তমানে আনার চাষ করে সফল হন। তিনি উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের পাটখাগুড়ি গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে।

জানা যায়, ২০২৩ সালে আল আমিনের মা ক্যানসারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন নিয়মিত আনার বা ডালিম খাওয়ানোর জন্য। বাজারের ফলগুলোতে কেমিক্যাল থাকে। ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের জন্য নিরাপদ ফলের অভাব থেকেই আল আমিন সিদ্ধান্ত নেন আনার চাষের। উঠানের কোণে ছোট কয়েকটি চারা রোপণ করেন। পরে বাসার ছাদে ড্রামে আনার গাছ রোপণ করেন। ২০২৫ সালের মে মাসে আল আমিনের মায়ের মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যু হলেও তার আনার বাগানের পরিধি বেড়েছে। নিজ হাতের কলম করা চারা সারাদেশে মানুষের ছাদ বাগানে চলে যাচ্ছে। প্রতি মাসে শুধু চারা বিক্রি করেন ৬০-৮০ হাজার টাকা।
উদ্যোক্তা আল আমিন বলেন, ‘২০২৩ সালে মা ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ওই সময় আমি গার্মেন্টসে চাকরি করতাম। মাকে চিকিৎসক আনার ফল খাওয়ানোর কথা বলেন। বাজারের আনারগুলোতে কেমিক্যাল থাকে। ওই সময় আনার ফল কিনতে ৫০০-৬০০ টাকা লাগতো। এই টাকা দিয়ে আনার কেনা আমার জন্য কষ্টকর ছিল। তাই মাকে ভালো আনার খাওয়ানোর জন্য বাড়ির উঠানে চারা রোপণ করি।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমে ছাদে আনার বাগান করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পরে ইউটিউবে ছাদে আনার বাগান করার ভিডিও দেখি। গাজীপুরের টঙ্গী থেকে কয়েকটি ছোট চারা কিনে ছাদে ড্রামের মধ্যে আনার গাছ রোপণ করি। তখন ছাদে সিঁড়িও ছিল না। সেই চারা থেকেই ছাদে আনার বাগান গড়ে ওঠে। যখন দেখি মায়ের শরীর বেশি ভালো না; তখন চাকরি বাদ দিয়ে দিই। আমার চাকরি বাদ দেওয়ার এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু হয়। মায়ের জন্যই আনার বাগান গড়ে তুলেছিলাম। মা আমার জন্য অনুপ্রেরণা ছিলেন।’

আল আমিন বলেন, ‘মায়ের মৃত্যুর পর এখন আমার বাসার ছাদ ও মাটিতে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার আনার চারা আছে। যে আনার গাছে ফল ধরেছে; সেই গাছগুলো ছাদে আছে। এ ছাড়া এখন আমি ছাদে আঙুর, কমলা ও মাল্টা চাষ করছি। নিজে গাছগুলো কলম করি এবং চারা উৎপাদন করে বিক্রি করছি। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আমার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে ভারতের মহারাষ্ট্রের সুপার ভাগোয়া, মৃদুলা, গুজরাটি আনার, থাইল্যান্ডের থাই আনার, অস্ট্রেলিয়ার আনার, পাকিস্তানি আনারসহ ২৬টি জাত আছে। প্রতি মাসে খরচ বাদে ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করতে পারি।’

স্থানীয় মিজানুর রহমান বলেন, ‘আল আমিন ছাদে আনার বাগান করে সফল হয়েছে। সে আনারের কলম করে চারা বিক্রি করছে। তার মা যখন অসুস্থ; তখন থেকেই বাসার ছাদে আনার বাগান করে। তখন অল্প পরিসরে করলেও এখন বাগানের পরিধি বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসে। তার কাছ থেকে চারা নিয়ে বাগান করছে। আমারও ইচ্ছে আছে তার মতো ছাদে আনারের বাগান করার।’

আল আমিনের বাগান দেখতে আসা হাবিবুল্লাহ শেফুল বলেন, ‘বাসার ছাদে চমৎকার একটি ছাদ বাগান দেখলাম। দেশের মাটিতে ও বাসার ছাদে এত সুন্দর আনার চাষ হতে পারে আমার জানা ছিল না। আমি খুব দ্রুত তরুণ উদ্যোক্তা আল আমিনের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আমার বাসার ছাদে আনার বাগান করব।’
এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু ইলিয়াস তালুকদার বলেন, ‘আল আমিন সফল তরুণ উদ্যোক্তা। সে তার বাসার ছাদে আনার বাগান করেছে। ছাদে আনার বাগান ও চারা কলম করে বিক্রি করছে। তার বাগানের চারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। প্রতি মাসে ভালো আয় করতে পারছে। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তাকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
এ বিভাগের আরো খবর..
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - রাইট কৃষি-২০২১-২০২৪
Web Design By Best Web BD