1. admin@ritekrishi.com : ritekrishi :
  2. ritekrishi@gmail.com : ritekrishi01 :
গবেষণা সফল হলে বছরে অন্তত এক হাজার মিলিয়ন ডলার বাঁচবে
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪১ অপরাহ্ন

গবেষণা সফল হলে বছরে অন্তত এক হাজার মিলিয়ন ডলার বাঁচবে

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৩২০ পড়া হয়েছে

আপনি তো দীর্ঘদিন ধরেই শর্ষে নিয়ে গবেষণা করছেন।

কাজ করছি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে। আমরা শর্ষের পাঁচটি জাত উদ্ভাবন করেছি। এগুলোর নাম দিয়েছি বাউ সরিষা ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮। শর্ষেগাছে একধরনের রোগ হয়। আমরা এটাকে বলি অলটারনারিয়া ব্লাইট। বাংলায় পাতা ঝলসানো রোগ বলতে পারেন। আমরা যে নতুন জাতগুলো উদ্ভাবন করেছি, সেগুলো অলটারনারিয়া ব্লাইটের প্রতি উচ্চমাত্রায় সহনশীল। ফলনেও কম সময় লাগে। আবার কীটনাশক দিতে হয় না বলে কৃষকের খরচ কম হয়, পরিবেশের ক্ষতি হয় কম। এখনো গবেষণা চলছে। অতএব এই জাতগুলো শতভাগ অলটারনারিয়া ব্লাইট রোধ করবে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। ৯৯ শতাংশ সহনশীল, এটা বলাই যায়।

কেন শর্ষে নিয়েই গবেষণার কথা ভাবলেন?

অলটারনারিয়া ব্লাইট শর্ষের জন্য খুব ক্ষতিকর একটা রোগ। এই রোগ প্রতিবছরই হয়। এই রোগের কারণে ১ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি হতে পারে। এর কারণে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ফলন কমে যায়। এখন আপনি দেখুন, আমাদের ভোজ্যতেলের যা চাহিদা, আমরা প্রতিবছর নিজস্ব ফলনের মাধ্যমে তার মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পূরণ করতে পারি। বাকি ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। সরকার চাচ্ছে আমাদের আমদানিনির্ভরতা কমাতে। অতএব যদি একটা রোগ প্রতিরোধ করেই শর্ষের ফলন প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো যায়, সেটা নিশ্চয়ই আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সত্যিই যদি এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়, তাহলে বছরে আমাদের কত ডলার বাঁচবে বলে মনে করেন?

এটা পুরোপুরি হিসাব করা হয়নি। তবে কয়েক বছর আগের হিসাব অনুযায়ীও প্রতিবছর আমাদের ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করতে হতো। এখন নিশ্চয়ই খরচটা আরও বেড়েছে। হয়তো তিন হাজার মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে বলতে পারি, গবেষণা সফল হলে বছরে অন্তত এক হাজার মিলিয়ন ডলার বাঁচবে।

গবেষণায় কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে

আমার প্রকল্পটির নাম ছিল এক্সিলারেটেড জেনেটিক গেইন। অর্থাৎ জেনেটিক গেইন বাড়ানো। একটু সহজ করে বোঝানোর চেষ্টা করি। ধরুন, একটা ক্লাসে ১০০ জন শিক্ষার্থী আছে। তারা গড়ে পরীক্ষায় ৬০ নম্বর পায়। আমি এখন এই ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ১০ জন ভালো ছাত্রকে আলাদা করলাম। তাদের গড় বেড়ে ৭০ হয়ে যাবে। এবার আমি ১০ জন থেকে ৫ জনকে আলাদা করলাম। তাদের গড় বেড়ে হবে ৮০। সহজ ভাষায়, এক্সিলারেটেড জেনেটিক গেইন হলো ভালো সন্তানদের বের করে আনা। একটু সরলীকরণ হয়ে গেল। কিন্তু সহজভাবে বললে ব্যাপারটা এ রকমই।

আপনার সঙ্গে নিশ্চয়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও কাজ করেছেন।

নিশ্চয়ই। প্রথমে কাজ করেছে আবির উল ইসলাম। সে এখন জাপানে পিএইচডি করছে। এরপর যোগ দিয়েছে নাঈমা সুলতানা, সে এখন সহকারী অধ্যাপক হয়ে গেছে। পরে যোগ দিল সুব্রত দাশ। সে-ও টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছে। গৌতম গোস্বামী নামের এক ছাত্র কাজ করেছে, এই সেমিস্টারে থিসিস জমা দিয়েছে। সব মিলিয়ে কমপক্ষে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী এটা নিয়ে কাজ করে রিসার্চ পেপার জমা দিয়েছে। এখনো কেউ কেউ কাজ করছে। এরই মধ্যে আমরা বুক চ্যাপটার প্রকাশ করেছি। সামনে আরও পাবলিকেশন হবে।

অনেক সময় দেখা যায় গবেষণা করতে গিয়ে আপনারা যে ফল পাচ্ছেন, কৃষকেরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সেটা পাচ্ছেন না। এই দূরত্বটা কীভাবে কমানোর কথা ভাবছেন?

সে জন্যই সারা দেশের কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। অনেক জেলায় আমার ছাত্ররা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে আছে। ওরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বীজ নিচ্ছে। আবার আমি নিজ খরচেও ব্যাগে ভরে ভরে অনেক জায়গায় বীজ পাঠিয়েছি। সাতক্ষীরা, যশোর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বগুড়া, নওগাঁ, শেরপুর—এই জেলাগুলোর কৃষকদের হাতে বীজ পৌঁছাতে পেরেছি। প্রতিদিন তাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছে। অনেকে ফসলের ছবি তুলে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছেন। সব মিলিয়ে আমার মধ্যে একধরনের রোমাঞ্চ কাজ করছে। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে কৃষকদের ফিডব্যাকের অপেক্ষায় আছি। কেউ যদি কোনো সমস্যার কথা জানায়, নিশ্চয়ই আমরা সমাধান খুঁজব।

আপনি কি সব সময় কৃষিবিদই হতে চেয়েছিলেন? গবেষণার অনুপ্রেরণা পান কোথায়?

আমাকে কৃষি নিয়ে পড়ানোর আগ্রহ ছিল মূলত মায়ের। আমাদের এক আত্মীয় ছিলেন পশুপালন কর্মকর্তা। মা দেখতেন, তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে গ্রামে আসেন। তাঁকে দেখেই হয়তো মায়ের একধরনের ইচ্ছা হয়েছিল। আমি অবশ্য ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম। এখন মনে হয়, যা করছি, সেটাই ঠিক আছে। কৃষকেরা যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপকৃত হন, সেটাই তো বড় প্রাপ্তি। অনেকে বলে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। আমি সব সময় ছাত্রদের বলি, ফান্ড নিয়ে ভেবো না। আমার কাছে অনেক টাকা আছে। কারণ, আমি গবেষণার টাকাটা শুধু গবেষণার পেছনেই খরচ করি। সামনে আরও বড় তহবিলের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করব। কাজটা সফল করতে হলে সব পক্ষ থেকেই সবার সহযোগিতা দরকার।

সূত্র :প্রথম আলো

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
More News Of This Category
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - রাইট কৃষি-২০২১-২০২৪
Web Design By Best Web BD