1. info@ritekrishi.com : ritekrishi01 :
  2. admin@ritekrishi.com : ritekrishi :
  3. ritekrishi@gmail.com : ritekrishi01 :
দিনাজপুরে বেগুন চাষে বাম্পার ফলন
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুরে বেগুন চাষে বাম্পার ফলন

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ পড়া হয়েছে

দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার কৃষকরা রবি শস্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষে কৃষকরা বেগুন ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বেগুনের বাম্পার ফলন ও প্রথম দিকে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা তাদের ক্ষেতের অর্জিত বেগুনের ভাল দাম পাওয়ায় এবং বেগুন বিক্রি করতে কোন ধরনের ঝামেলা না থাকায়, কৃষকেরা স্বস্তিতে রয়েছেন। তাদের অর্জিত ক্ষেত থেকে প্রতিদিন পাইকাররা নিজে এসে বেগুন ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

অধিক লাভের আশায় গত দু’বছর থেকে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও পরামর্শে আগাম জাতের গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষ করেন খানসামা উপজেলার অনেক কৃষক।

গ্রীষ্মকালীন অধিক ফলনশীল ও উন্নত আগাম জাতের বেগুন চাষে বেশ লাভবান হয়। তবে চলতি বছর হঠাৎ করে জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ কীটনাশক ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং পাইকারি বাজারে বেগুনের আমদানি বেশি থাকায়, দাম আগের মত চাষিরা পাচ্ছেনা। তাদের বেগুনের দাম কিছুটা কম পাচ্ছেন। তারপরও বেগুন চাষিরা হতাশা হয়নি। তারা মনে করছেন বেগুনের দাম এভাবে কম-বেশি হলেও তাদের কোন ক্ষতি হবে না। হয়তো গত বছর তুলনায় এবার কিছুটা মনাফা কম হতে পারে। কারণ, এবারে গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষী কৃষকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফলে বাজারে বেগুনের আমদানি বাড়ছে।

বেগুন চাষিরা বলছেন, প্রথম দিকে ক্ষেত থেকে বেগুন দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৭শ’ টাকা মন ধরে বেগুন বিক্রি করেছে। গত কয়েক দিন ধরে বেগুনের দাম কমিয়ে ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে।

খানসামা উপজেলার বদলগাড়ী গ্রামের বর্গা চাষি মমিনুর রহমান বাসস’কে বলেন, এবার দুই বিঘা জমি ১ বছরের জন্য ৩২ হাজার টাকায় বর্গা নিয়ে আগাম জাতের গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষ করেছি। প্রতি বছর বেগুন চাষ করে যথেষ্ট লাভ হয়েছি। এ বছর হঠাৎ করে জ্বালানি তেল, সার কীটনাশক ওষুধসহ দিন মজুরের মূল্য বাড়ায় বেগুন চাষে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। তারপরেও আমরা অর্জিত বেগুনের ফলনে লাভবান হবো বলল আশা করছি।

এদিকে গত এক সপ্তাহ আগে বেগুনের মূল্য দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৭শ’ টাক মন দরে বিক্রি করে ছিলাম। এ সপ্তাহে বেগুনের দাম কমে ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। বেগুনের ফলন ভাল থাকায় হয়তো মুনাফা কিছুটা কম হব। তারপরেও বেগুন চাষিরা লাভের আশা দেখবে বলে তিনি আশা করছেন। আগামী বাংলা আশ্বিন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন বেগুন বাজারজাত করতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন। সেভাবেই তাদের বেগুন ক্ষেত ক্ষেতে ফলন আহরণে পরিচর্যা করছেন।

উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের সুবর্ণখুলি গ্রামের বেগুন চাষি রেজাউল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে গত দু’বছর থেকে গ্রীষ্মকালীন বেগুনের চাষ করেছি। এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুনের চাষাবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বেগুনের ফলন ভালো হয়েছে। আরো দেড় মাস ক্ষেতের বেগুন বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু হঠাৎ করে বাজারে বেগুনের দাম কমায় একটু দুশ্চিন্তায় আছি। তবে ফলন ভালো হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

একই এলাকার বেগুন চাষি আবু তালেব বলেন, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে প্রায় টানা ১ মাস বেগুনের দাম ভালো ছিল। এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতি বিঘায় বেগুন চাষে খরচ হয় কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আমি এখন পর্যন্ত ৪৮হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। আশা করছি আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবো ইনশাল্লাহ।

বেগুন ক্ষেতে রোগ মুক্ত ও আবহাওয়া অনুকূলসহ বেগুনের ভালো দাম থাকলে এক বিঘায় ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করা সম্ভব। যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়। এ বছর বেগুন চাষে খরচের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সব জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। প্রথম দিকে দাম ভাল থাকলেও, এখন বাজার দাম কম থাকায় লাভ একটু কম হচ্ছে। তবে একেবারেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না।

জেলার খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বাসস’কে বলেন, চাষিদের বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করা ও বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা বেগুন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এ অঞ্চলের মাটি বেগুন চাষের উপযোগী হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক বেগুন বিক্রি করে প্রথমেই ভালো দাম পেয়েছে এখন বাজারে বেগুনের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমছে। তারপরও চাষিরা বেগুন বিক্রি করে ক্ষতির সম্মুখীন হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তিনি বলেন, এ বছর খরার মাত্রা বেশি থাকায় বেগুনের পাশাপাশি সবজি জাতীয় অন্যান্য ফসল ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। এখানকার বেগুন জেলার চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের নিকট থেকে পাইকারি দরে নিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রথম দিকে বেগুনের বাজার ভালো ছিল। গত দুই থেকে তিন দিনে বাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় একটু দাম কমে গেছে।

কৃষি বিভাগ কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সবসময় মনিটরিং করছেন বলে তিনি জানান।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
More News Of This Category
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - রাইট কৃষি-২০২১-২০২৪
Web Design By Best Web BD