1. admin@ritekrishi.com : ritekrishi :
  2. ritekrishi@gmail.com : ritekrishi01 :
ভার্মি কম্পোস্ট, রাসায়নিক সারের বিকল্প - Rite Krishi
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

ভার্মি কম্পোস্ট, রাসায়নিক সারের বিকল্প

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ৫০ পড়া হয়েছে

তালায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছেড়ে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) সারের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। রাসায়নিক সারের ক্ষতিকারক দিক বিবেচনায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতার ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে উপজেলার তৃণমূলে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে শুরু করেছেন ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার। আর ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও শুরু হয়েছে ভার্মির উৎপাদন। সুফলও পাচ্ছেন ভার্মির সাথে সংশ্লিষ্টরা- এমনটাই জানিয়েছেন কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

খাদ্য ছাড়া জীবন অচল। আর পৃথিবীর সকল জীবের খাদ্যের যোগান মেটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাটি থেকেই। গঠন অনুসারে পানি, বায়ু, অজৈব/খনিজ ও জৈব এ ৪টি উপাদানে মাটি গঠিত। আমরা মাটিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে কিছুটা হলেও অজৈব ঘাটতি পূরণ করে থাকি। তবে মাটিতে জৈব উপাদান না দেওয়ায় এর ঘাটতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে একসময় মাটি প্রাণহীন হয়ে পড়বে বলে কৃষি তথ্য আমাদের নিয়মিত জানান দিচ্ছে।

এরই মধ্যে রাসায়নিক সারের কূফল যেমন ফসলের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, জমির প্রাকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট,মাটির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে এর পরিবেশ দূষিত, ফসলের ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত নতুন রোগ-জীবাণুর আক্রমণ ও শত্রু পোকার বংশ বিস্তার, উৎপাদিত ফসলে খাদ্য পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, মাটির অণু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাটির পানি ধারণক্ষমতা লোপ পাওয়া সহ নানা কুফল তুলে ধরে ভার্মি কম্পোস্টের উৎপাদকরা লিফলেটও বিতরণ করছেন কৃষকদের মধ্যে।

কৃষি তথ্য ও বিভিন্ন উৎপাদক গোষ্ঠীর প্রচারপত্রানুযায়ী আরো জানা যায়, ভার্মি কম্পোস্ট মানবদেহের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য-শষ্য উৎপাদনে বোটানিকা অ্যাগ্রো লি. ২০০৭ সালে পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত জৈব সার উৎপাদনের জন্য গবেষণামূলক কার্যক্রম শুরু করে। একপর্যায়ে ২০০৯ সালে (এপিজিক) জাতের রেড ওয়ান (অস্ট্রেলিয়া) ও ব্লাব নাইট (অফ্রিকা) এই দুই জাতের কেঁচো বেশ কয়েকবার সংকরায়ন করার পর আবিষ্কার হয় নতুন প্রজাতির বি এস ওয়ান। এতে চূড়ান্ত সফলতাও আসে। এই কেঁচোকে নির্দিষ্ট পরিবেশে গ্যাসমুক্ত গোবর খাওয়ালে মল আকারে এক ধরনের সার উৎপন্ন হয়। এই জাতের কেঁচো শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে রস নিঃসরণ করে। এ রস উদ্ভিদেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এবং সারের সাথে মিশে যায়। ফলে উৎপাদিত সারের মান বহুগুণে বেড়ে যায়। আর এই মানসম্পন্ন সারই কম্পোস্ট বা কেঁচো সার।

এই কম্পোস্ট বা কেঁচো সারে রয়েছে পিএইচ ৬.৫%, জৈব কার্বন ২৫%, মোট নাইট্রোজেন ২%, কার্বন : নাইট্রোজেন ১০%, ফসফরাস ২.৫%, পটাশিয়াম ৩%, কপার ৩%, সালফার ৫%, জিংক ০.৫%, ক্যালসিয়াম ১%, আয়রণ ০.৫% ও ম্যাগনেশিয়াম ১%।

কেঁচো সারের উপকারিতা সম্পর্কে জানা যায়, মাটির জৈবশক্তি বৃদ্ধি পায় ও পিএইচ মান সঠিক মাত্রায় থাকে। মাটির প্রকৃত গুণ রক্ষা করে, মাটির পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ফলে ফসলে পানি সেচ কম লাগে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, মাটিকে ঝরঝরে করে ও বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করে, উদ্ভিদেও শেকড়ের মাধ্যমে শোষণক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, বীজের অঙ্করোধগম শক্তি বৃদ্ধি করে ও গাছকে সুস্থ-সবল রাখে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এতে কৃষকের চাষ খরচ অনেক কম হয়, ফসলের ফলন বৃদ্ধি ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।

কৃষি তথ্যানুযায়ী জানা যায়, মাছ চাষের জন্য পুকুর বা ঘেরে কেঁচো সার প্রয়োগ করলে রাসায়নিক সার ও অন্য খাবার সামান্য ব্যবহারেই কম খরচে অতি দ্রুত বৃদ্ধি ও সুস্বাদু মাছ উৎপাদন করে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। কারণ হিসেবে জানা যায়, এ সার পানিতে জু-প্লাঙ্কটন ও ফাইটোপ্লাঙ্কটন তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে মাটির গাদকে খাদ্যে পরিণত করে। তা ছাড়া ভার্মি কম্পোস্ট কেঁচো সার নিজেও একটা খাবার।

কম্পোস্টের ব্যবহার বিধি সম্পর্কে এর অন্যতম উদ্যোক্তা ও উৎপাদক মোড়ল আব্দুল মালেক জানান, ২০১২ সালে চাকরি থেকে অবসরের পর নিজ উদ্যোগে প্রথমে বাড়িতেই শুরু করেন কম্পোস্ট উৎপাদন। প্রথমত নিজের জমিতে প্রয়োগ শুরুর পর সফলতা পাওয়ায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে কৃষক সচেতনতার পাশাপাশি এর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ শুরু করেন। এরপর তার কন্যা শাহিনুর সুলতানা (শীলা) তালার বেসরকারি সাহায্যসেবী প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রচেষ্টার অর্থায়নে শুর করেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন কার্যক্রম। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। শুধু সামনের দিকেই এগিয়ে চলা। প্রথমত ১৮টি বেড় বা নান্দা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও এখন ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৩০টি বেড বা নান্দায় উৎপাদিত হচ্ছে ভার্মিস্ট বা কেঁচো কম্পোস্ট সার।

তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শুভ্রাংশু শেখর দাশ জানান, মাটির ভৌত এবং জৈব গুণাবলি উন্নতিকরণের জন্য কম্পোস্ট সারের গুরুত্ব অপরিসীম। উপজেলায় কৃষি দপ্তারের আওতায় স্থাপিত ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনীসমুহের মাধ্যমে উপকৃত হয়ে স্থানীয় কৃষকরা নিজ উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছে। ভার্মিস্ট বা কেঁচো কম্পোস্ট উপজেলায় বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সরকারের পাশাপাশি এনজিওভিত্তিক বা বাণিজ্যিকভাবেও কৃষক সচেতনতায় এর প্রদর্শণী ও সুফলতা সম্পর্কে জানান দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কমেছে বহুলাংশে।

সুত্র: কালের কন্ঠ

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
More News Of This Category
Web Design By Best Web BD