1. admin@ritekrishi.com : ritekrishi :
  2. ritekrishi@gmail.com : ritekrishi01 :
মাশরুম চাষে সাফল্য
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

মাশরুম চাষে সাফল্য

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ৫১ পড়া হয়েছে

নেত্রকোনায় মো. রিয়াদুল ইসলাম (২৬) নামের এক তরুণ চাকরি না পেয়ে মাশরুম চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। ভালো ফলন হওয়ায় অল্প দিনে তিনি লাভের মুখ দেখেছেন। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে পরিসর বাড়িয়ে মাশরুম চাষ করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

রিয়াদুলের বাড়ি সদর উপজেলার বুড়িঝুড়ি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রিয়াদুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিয়াদুলের বাবা সাধারণ কৃষক, মা গৃহিণী। তাঁদের অল্প জমি চাষ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে তাঁর সংসার চলে। তাঁরা দুই ভাই, এক বোন। বড় ভাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করে চাকরি খুঁজছেন। ছোট বোন মৌসি আক্তার স্নাতকের ছাত্রী। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে দুই বছর আগে বিএ পাস করেন। এরপর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির চেষ্টা করেন। না পেয়ে অনেকটা হতাশ হন। বছরখানেক আগে ইউটিউবে মাশরুম চাষ দেখে বোন মৌসি আক্তারের পরামর্শে বেকারত্ব ঘোচাতে তিনি মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হন। পরে সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ট্রেনিং সেন্টারে চার দিনের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপর বাড়ি ফিরে পরীক্ষামূলকভাবে থাকার ঘরের একটি অংশে মাশরুম চাষ শুরু করেন। সঠিক পরিচর্যায় ২০ দিনের মাথায় শুরু হয় ফলন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ কেজি মাশরুম পাচ্ছেন। ‘মিল্কি হোয়াইট’ জাতের মাশরুম চাষ করেছেন তিনি। খড় দিয়ে তৈরি মাশরুম জন্মানোর একেকটি স্পঞ্জে (পাত্র) দেড় থেকে দুই কেজি মাশরুম উৎপাদিত হয়। বর্তমানে তাঁর বাড়িতে দুটি ঘরে এক হাজার প্যাকেট রয়েছে। স্থানীয় বাজারসহ শহরের নানা এলাকায় তাঁর মাশরুম বিক্রি হয়। প্রতি কেজি মাশরুম ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। অনেক সময় অবিক্রীত মাশরুম রোদে শুকিয়ে রাখেন, পরে তা বেশি দামে তিনি বিক্রি করেন। রিয়াদুল জানান, মাশরুম চাষে বাঁশের মাচা তৈরি, পলিথিনের প্যাকেটসহ নানা কাজে তাঁর প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই খরচের টাকা উঠে যায়। এখন তিনি পরিবারের নানা কাজের পাশাপাশি মাশরুম চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে গত এক বছরে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো আয় করছেন। তাঁকে দেখে এখন এলাকার অনেক বেকার যুবক মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চাষপদ্ধতি শিখতে তাঁর কাছে প্রতিদিনই যাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

সম্প্রতি রিয়াদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্দিক মিয়া নামের এক ক্রেতা ২৮০ টাকা দরে তাঁর কাছ থেকে তিন কেজি মাশরুম কিনে নিচ্ছেন। ওই ক্রেতা জানান, শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় তাঁর ভাসমান বুট-বড়ার দোকান আছে। তিনি প্রতিদিন মাশরুম ভেজে ১০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করেন। এতে তাঁর দুই থেকে তিন গুণ লাভ হয়। বুড়িঝুড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও তৌফিক তালুকদার বলেন, ‘রিয়াদুল মাশরুম চাষ করে অল্প দিনের মধ্যেই এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। তাঁকে দেখে আমরা মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছি। চাষ করব ভাব।’

নেত্রকোনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘মাশরুম একধরনের ছত্রাক। এর অধিকাংশই ব্যাসিডিওমাইকোটা এবং কিছু অ্যাসকোমাইকোটার অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য উদ্ভিদের মতো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরির জন্য মাশরুমের সূর্য থেকে আলোর প্রয়োজন পড়ে না। খাবার হিসেবে মাশরুম অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও সহজে হজম হয়। রিয়াদুলের মতো অনেক বেকার যুবক মাশরুম চাষ করে সহজে লাভবান হতে পারেন।’

সূত্রঃ প্রথম আলো

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
More News Of This Category
Web Design By Best Web BD