1. admin@ritekrishi.com : ritekrishi :
  2. ritekrishi@gmail.com : ritekrishi01 :
সরিষা আবাদ বেড়েছে নওগাঁর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

সরিষা আবাদ বেড়েছে নওগাঁর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ২৭৬ পড়া হয়েছে

গতবছরের তুলনায় জেলায় এবছর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে।হলুদে ছেয়ে গেছে নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার ফসলের মাঠ। যত দূর চোখ যায় যেন সরিষার হলুদ ফুলের মাখামাখি। যেখানে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিকতায়। সরকারি প্রণোদনা এবং তেলের দামবৃদ্ধিতে বেড়েছে সরিষার আবাদ। এছাড়া সরিষার ব্যাপক ফলন পাবেন বলেও আশা করছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার ১১টি উপজেলায় ৪৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের বারি-১৪, ১৫, ১৭ ও ১৮ এবং বিনা-৪, ৯ ও টরি-৭ সরিষার আবাদ করা হয়েছে। গত বছর ৩৪ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। যা এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।

 

উপজেলাভিত্তিক সরিষা আবাদের পরিমাণে দেখা যায়, সদর উপজেলায় ২ হাজার ৬২০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৩ হাজার ১০ হেক্টর, মান্দায় ৬ হাজার ৩০০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২ হাজার ৬৯০ হেক্টর, বদলগাছীতে ১ হাজার ২৬০ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ৩ হাজার ৩৫৫ হেক্টর, পত্নীতলায় ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর, সাপাহারে ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর এবং পোরশায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। যেখান থেকে ৭২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এবছর জেলায় ২৮ হাজার ২০০ জন কৃষকের মাঝে উন্নত জাতের এক কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। ফলনও ভালো হওয়ার পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।

চাষিরা বলছেন, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা আবাদে হালচাষ, পানি সেচ, সার, ওষুধ ও শ্রমিকসহ আনুষঙ্গিক খরচ পড়ে তিন-চার হাজার টাকা। যেখানে ফলন হয় চার-পাঁচ মণ। গতবছর ৩০০০-৩৪০০ টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হয়েছিল। ৩৪০০ টাকা মণ হিসেবে পাঁচ মণের দাম ১৭ হাজার টাকা। যেখানে খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে ১৩ হাজার টাকা। সরিষা বিক্রির টাকা দিয়ে সহজেই ইরি-বোরো আবাদ করতে পারেন তারা। এছাড়া সরিষার ফুল ও পাতা জমিতে পড়ে জৈব সারের চাহিদা পূরণ করে।

নওগাঁ সদর উপজেলার তাজনগর গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান গতবছর এক বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছিলেন। বিঘায় ফলন পেয়েছিলেন পাঁচ মণ। দাম পেয়েছিলেন প্রতিমণ ৩২০০ টাকা, যা দিয়ে ইরি-বোরো আবাদ করতে সুবিধা হয়েছে।

লুৎফর রহমান বলেন, বাজারে সরিষা তেলের দাম বেশি হওয়ায় এবছর দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। বাড়িতে খাবার জন্য রেখে অবশিষ্ট সরিষা বিক্রি করা হবে। আর বাকি টাকা ইরি-বোরো চাষাবাদে ব্যয় করা হবে। এতে করে বোরো আবাদের জন্য পকেট থেকে টাকা দিতে হবে না।

একই গ্রামের কৃষক মিলন হোসেন বলেন, প্রতি বিঘাতে ডিএপি ৩০ কেজি, পটাশ ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০ কেজি, জিপসাম সার ১০ কেজি, দানাদার ও ম্যাগনেশিয়াম এবং কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রায় ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা আবাদ করলে ফলন পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ মণ এবং দেশীয় সরিষা সাড়ে তিন থেকে চার চার মণ হয়।

মান্দা উপজেলার ছোটমুল্লুক গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, এবছর তিন বিঘা জমিতে দেশীয় জাতের সরিষার আবাদ করেছি। দেশি সরিষা কিছুদিন আগেই জমি থেকে উঠানো যায়। এরপর ওই জমিতে ইরি-বোরো লাগানো হয়। এবছর সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। আশা করছি, ফলন ও দাম ভালো পাওয়া যাবে। কারণ, বাজারে সরিষার তেলের দাম ২২০-২৫০ টাকা কেজি। সে হিসেবে সরিষার দামও বেশি হওয়ার সম্ভবনা আছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, সরিষা আবাদ করার জন্য কৃষকদের শুরু থেকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আশা করছি, কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত সরিষার আবাদ হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের তেল আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
More News Of This Category
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - রাইট কৃষি-২০২১-২০২৪
Web Design By Best Web BD