ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে ২০২৬-২৭ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রোপণ মৌসুমের উদ্বোধন উপলক্ষে এসটিপি পদ্ধতিতে আখ চাষ ও আগাম আখ চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মিলগেট এলাকার পুকুরিয়া মাঠে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (সিএআইএস) মুন্সি মো. খলিল। তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের নয়টি সুগার মিল এলাকায় একযোগে আখ রোপণের উদ্বোধন করেন।
মোবারকগঞ্জ সুগার মিল এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আ.ন.ম. জোবায়ের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিলের কৃষি ব্যবস্থাপক গৌতম কুমার মণ্ডল। মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের কৃষি বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ও আখচাষি মাজেদুর রহমান।
মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ রোপণ মৌসুমে ৪৩ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমের জন্য মিল এলাকায় দাঁড়ানো আখ রয়েছে ৪ হাজার ১০ একর জমিতে। এ পরিমাণ আখ দিয়ে প্রায় দুই মাস মিল চালানো সম্ভব হবে।
এদিকে, আসন্ন ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমের আগেই আখের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবার প্রতি মণ আখের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬০ টাকা ৪০ পয়সা। গত মাড়াই মৌসুমে প্রতি মণ আখের মূল্য ছিল ২৫০ টাকা।
বিগত বছরগুলোতে নানা প্রতিকূল পরিবেশের পাশাপাশি অল্প সময়ে ফুল-ফলসহ বিভিন্ন লাভজনক ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকায় আখচাষের জমি কমে যাচ্ছিল। তবে গত কয়েক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে আখের মূল্য বৃদ্ধির ফলে আখচাষে ফিরছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবারও আখের দাম বাড়ায় খুশি আখচাষিরা।
এছাড়া গত মৌসুমে মিলের কাছে আখ সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। এবারও একইভাবে আখ সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের টাকা পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।